কুরবানীর ফাযায়েল ও মাসায়েওল
কুরবানী ইসলামের একটি আর্থিক ইবাদত, যা বান্দার তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের উজ্জ্বল নিদর্শন। ঈদুল আযহার এই ইবাদতের মাধ্যমে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম -এর ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের স্মৃতি পুনর্জীবিত হয়। কুরবানীর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে এবং তাঁর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সুযোগ পায়। এ ইবাদতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করা; গরিব-দুঃখীদের মাঝে মাংস বিতরণের মাধ্যমে তাদের আনন্দে শরিক করা। এই দিনে যেন সবাই আল্লাহর মেহমান হয়ে তাঁর নিয়ামত ভোগ করে। তাই কুরবানী কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা ইখলাস, ত্যাগ ও মানবিকতার এক অনন্য শিক্ষা।
উক্ত প্রবন্ধে সংক্ষিপ্ত আকারে কুরবানীর ফযিলত ও কিছু জটিল মাসআলা উপস্হাপন করা হল।
কুরবানীর ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
وَ الْبُدْنَ جَعَلْنٰهَا لَكُمْ مِّنْ شَعَآىٕرِ اللّٰهِ لَكُمْ فِیْهَا خَیْرٌ
অনুবাদ:- এবং কুরবানীর মোটাতাজা পশু উট ও গাভীকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম করেছি। তোমাদের জন্য সেগুলোর মধ্যে কল্যাণ রয়েছে। (সূরা: হজ্জ, আয়াত: ৩৬)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ: قَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَا رَسُولَ اللهِ مَا هٰذِهِ الْأَضَاحِيُّ؟ قَالَ: “سُنَّةُ أَبِيْكُمْ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ” قَالُوا: فَمَا لَنَا فِيهَا يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ: “بِكُلِّ شَعْرَةٍ حَسَنَةٌ” . قَالُوا: فَالصُّوفُ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ: “بِكُلِّ شَعْرَةٍ مِنَ الصُّوفِ حَسَنَةٌ
অনুবাদ:- হযরত জায়েদ বিন আরকাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই কোরবানীগুলো কী? তিনি বললেন, এটি তোমাদের পিতা ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সুন্নাত। তাঁরা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এতে আমাদের জন্য কী (সাওয়াব) রয়েছে?
তিনি বললেন, প্রতিটি লোমের বিনিময়ে একটি করে নেকি। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! উলের ব্যাপারেও কি তাই? তিনি বললেন, হ্যাঁ, উলের প্রতিটি লোমের বিনিময়েও একটি করে নেকি রয়েছে। (মিশকাত শরীফ, হাদীস: ১৪৭৬)
উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় হাকীমুল উম্মত হযরত আল্লামা মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন নাঈমী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
"হুযূর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পবিত্র আমলসমূহকে সুন্নাত বলা হয়, আর পূর্ববর্তী নবীদের পদ্ধতিকে ফিতরাত (স্বভাবগত ধর্মীয় রীতি) বলা হয়। সুতরাং কুরবানী একই সঙ্গে সুন্নাত ও ফিতরাত। প্রশ্নকারীদের মনে এই ধারণা এসেছিল যে, পশুর লোম তো খুবই বেশি একটি কুরবানীতে এত নেকি কীভাবে পাওয়া যাবে? এর উত্তরের সারকথা হলো: দানকারী তো অতি মহান দয়ালু আল্লাহ; তিনি তাঁর অনুগ্রহে এর চেয়েও বেশি দিতে পারেন তাকে বাধা দেওয়ার কে আছে? এ থেকেও বোঝা যায় যে, কুরবানী না করে তার মূল্য দিয়ে দেওয়া বা বাজার থেকে মাংস কিনে দান করা যথেষ্ট নয়। কারণ, তখন সাওয়াব পাওয়ার জন্য (কুরবানীর পশুর) লোম কোথা থেকে আসবে? (মিরআতুল মানাজীহ, ১৪৭৬ নং হাদীসের ব্যাখ্যা)
অপর হাদীসে বর্ণিত আছে।
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ إِنَّهَا لَتَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَظْلاَفِهَا وَإِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللَّهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ مِنَ الأَرْضِ فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًا
অনুবাদ :- হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কুরবানীর দিন মানুষ যে কাজ করে তার মধ্যে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সবচাইতে পছন্দনীয় হচ্ছে রক্ত প্রবাহিত করা (কুরবানী করা)। কিয়ামতের দিন তা নিজের শিং, পশম ও ক্ষুরসহ হাযির হবে। তার (কুরবানীর পশুর) রক্ত যমিনে পড়ার আগেই আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে এক বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে যায়। অতএব তোমরা আনন্দিত মনে কুরবানী কর। (তিরমিযী, হাদীস: ১৪৯৩)
কিছু জরুরী মাসআলা
(১) প্রশ্ন:- কুরবানী করা ওয়াজিব নাকি সুন্নাত?
উঃ:- মালিকে নেসাবের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَ انْحَرْﭤ
অনুবাদ:- সুতরাং আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য নামায পড়ুন ও কুরবানী করুন। (সূরা: কাউসার,আয়াত: ৩-৪)
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে মাযহারীর মধ্যে বলা হয়েছে:
قال عكرمةُ وعطاءٌ وقتادةُ: فَصَلِّ لِرَبِّكَ صَلَاةَ العِيدِ يَوْمَ النَّحْرِ وَانْحَرْ نُسُكَكَ، فَعَلَى هَذَا يَثْبُتُ وُجُوبُ صَلَاةِ العِيدِ الأُضْحِيَّةِ.
অর্থাৎ:- হযরত ইকরামা, হযরত আতা এবং হযরত কাতাদা রাহিমুহুমুল্লাহ বলেছেন:
"অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য নামাজ পড়ো অর্থাৎ কুরবানীর দিনের ঈদের নামায আদায় করো এবং তোমার কুরবানী করো। এই বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে ঈদুল আযহার নামায ও কুরবানী উভয়ই ওয়াজিব।(তাফসীরে মাযহারী, খন্ড: 10, পৃষ্ঠা: 353)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
مَنْ وَجَدَ سَعَةً لِأَنْ يُضَحِّيَ فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا
অনুবাদ:- হযরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আল্লহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরবানী করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটেও না আসে। (ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৩১২৩)
(২) প্রশ্ন:- মালিকে নেসাব কাকে বলা হয়?
উঃ:- যে পুরুষ বা নারীর মালিকানায় সাড়ে সাত তোলা (৯৩ গ্রাম ৩১২ মিলিগ্রাম) সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা (৬৫৩ গ্রাম ১৮৪ মিলিগ্রাম) রূপা অথবা (সাড়ে বায়ান্ন তোলা সমপরিমাণ) নগদ অর্থ বা ব্যবসার পণ্য অথবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো সম্পদ এগুলোর যেকোনো একটি কিংবা সবগুলোর বা কিছু অংশের সম্মিলিত মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমপরিমাণ থাকে, সে মালিকে নেসাব। তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।
এ কথাও স্মরণ রাখতে হবে যে, যেসব বস্তু দৈনন্দিন প্রয়োজন বা জরুরী কাজে লাগে না; বরং শুধু দেখানোর জন্য রাখা হয় অথবা ঘরে বহু বছর ধরে পড়ে থাকে এবং ব্যবহার করা হয় না সেগুলোও নিসাবের মধ্যে গণ্য হবে।
(৩) প্রশ্ন:- বাড়িতে একাধিক মালিকে নেসাব থাকলে কি সকলের ওপর কুরবানী ওয়াজিব?
উ:- মালিকে হিসাব -এর উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। সুতরাং বাড়িতে পাঁচ থেকে ছয় জন (পুরুষ হোক অথবা মহিলা) মালিক নেসাব হলে সকলের ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব হবে। (ফাতাওয়া ফায়যুর রাসূল ২/৪৩৯)
(৪) প্রশ্ন:- কুরবানীর পশুর বয়স কত হতে হবে?
উঃ:- উট পাঁচ বছর, গরু ও মহিষ দুবছর, ছাগল, দুম্বা ও ভেড়া কমপক্ষে এক বছর। তবে ছয় মাসের ভেড়া ও দুম্বা যদি এত মোটাতাজা হয় যা, দূর থেকে দেখলে এক বছরের মনে হয়, তাহলে এরূপ ছয় মাসের ভেড়া ও দুম্বার কুরবানী করা জায়েয আছে। (হেদায়া)
কিছু লোক মনে করে যে ছয় মাসের ছাগল/ ছাগি যদি এত মোটাতাজা হয় যা দূর থেকে দেখলে এক বছরের মনে হয় তাহলে এরূপ ছাগল/ ছাগি কুরবানী করাও জায়েয। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বরং শরয়ী বিধান হল যে, ছাগল/ছাগি যতই মোটাতাজা হোক না কেন এক বছর পূর্ণ না হলে তার কুরবানী করা জায়েয নেই।
দুরের মুখতার এর মধ্যে রয়েছে-
لو ضحی بسن اقل لا یجوز
অর্থাৎ:- ছাগল এক বছরের কম হলে তার কুরবানী করা জায়েয নেই।
ফাতাওয়া রাযাবীয়াহ -এর মধ্যে রয়েছে-
"এক বছরের কম ছাগল-ছাগি কুরবানী করা কোনো মতেই জায়েয নেই।"
(ফাতাওয়া রাযাবীয়াহ, খন্ড:20, পৃষ্ঠা:443, প্রকাশিত রেযা একাডেমী, মুম্বাই)
(৫) প্রশ্ন:- কত দিন পর্যন্ত কুরবানী করা যাবে?
উঃ:- যিলহজ্জ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ পর্যন্ত কুরবানী করা জায়েয। এর মধ্যে দশ তারিখে কুরবানী করা উত্তম। ১২ তারিখের পর ১৩ তারিখে কুরবানী করলে কুরবানী হবে না। (আহকামুল কুরআন ২/২০৫)
যে ধরনের পশু দিয়ে কুরবানী করা নাজায়েয:
১/ এমন পাগল বা উন্মাদ প্রাণী, যা চরে না।
২/ এত দুর্বল যে হাড়ে মজ্জা নেই (এর লক্ষণ হলো অতিরিক্ত দুর্বলতার কারণে দাঁড়াতেই পারে না)।
৩/ অন্ধ অথবা এমন একচোখা যার ত্রুটি স্পষ্ট।
৪/ এমন অসুস্থ প্রাণী যার অসুখ প্রকাশ্য (অর্থাৎ অসুখের কারণে খাবার খায় না)।
৫/ এমন খোঁড়া প্রাণী, যা নিজে নিজে কুরবানীর স্থানে যেতে পারে না।
৬/ যার জন্মগতভাবে কান নেই, অথবা একটি কান নেই।
৭/ বন্য প্রাণী যেমন নীলগাই, বন্য ছাগল।
৮/ খুনসা (উভলিঙ্গ) প্রাণী যার মধ্যে নর ও মাদী উভয়ের লক্ষণ আছে
৯/ জাল্লালা যে প্রাণী শুধু নাপাকী বা ময়লা খায়
১০/ যার একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে।
১১) যার কান, লেজ বা নিতম্বের অংশ এক-তৃতীয়াংশের বেশি কাটা;
নাক কাটা ।
১২/ যার দাঁত নেই (অর্থাৎ পড়ে গেছে)।
১৩/ স্তন কাটা বা শুকিয়ে গেছে। ছাগলের একটি থন শুকিয়ে যাওয়া, এবং গরু বা মহিষের দুটি স্তন যাওয়া। এসব প্রাণী দিয়ে কুরবানি করা নাজায়েয।
মাসআলা (১)
: যে পশুর জন্মগতভাবে শিং নেই, তার কুরবানী করা জায়েয। আর যদি শিং ছিল কিন্তু ভেঙে গেছে তবে যদি গোড়া (মূল) সহ ভেঙে যায়, তাহলে সেই পশুর কুরবানী জায়েয হবে না।
কিন্তু যদি কেবল উপরের অংশ ভেঙে যায় এবং গোড়া অক্ষত থাকে, তাহলে কুরবানী করা জায়েয হবে। (আলমগীরী ৫/২৯৭)
মাসআলা (২)
: কুরবানী করার সময় পশু লাফালাফি বা ছটফট করার কারণে যদি কোনো ত্রুটি সৃষ্টি হয়, তবে সেই ত্রুটি ক্ষতিকর নয় অর্থাৎ কুরবানী হয়ে যাবে। আর যদি লাফালাফির ফলে কোনো ত্রুটি তৈরি হয়ে পশুটি ছুটে পালিয়ে যায়, এরপর তাকে সঙ্গে সঙ্গে ধরে এনে জবাই করা হয়, তবুও কুরবানী হয়ে যাবে। (দুররে মুখতার ৯/৫৩৯)
মাসআলা (৩)
: জার্সি গরু ও বলদ যেহেতু গরুর পেট থেকেই জন্ম নেয়, তাই এগুলোর কুরবানী করা এবং এদের মাংস খাওয়া জায়েয। তদ্রূপ, জার্সি গরুর দুধ পান করাও জায়েয। কারণ, প্রাণীদের ক্ষেত্রে শরীয়তে মায়ের দিককেই মূল বিবেচনা করা হয়। (ফাতাওয়া বাহরুল উলূম ৫/৩৪২)
মাসআলা (৪)
: বড় পশু (যেমন উট, গরু, মহিষ ইত্যাদি) কুরবানীতে সর্বোচ্চ সাতটি অংশ হতে পারে। এর কম অংশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই; তাই সাতজনের কম যতজনই হোক, তারা এতে অংশীদার হতে পারে। তবে যে পশুতে শরীয়ত অনুযায়ী সাতজন অংশীদার হওয়ার অনুমতি রয়েছে, সেখানে শর্ত হলো কোনো অংশীদারের অংশ যেন এক-সপ্তমাংশের কম না হয়। যদি কিছু অংশীদারের অংশ এক-সপ্তমাংশ হয় এবং অন্যদের অংশ এক-সপ্তমাংশের বেশি হয়, তাহলে তা জায়েয। এমনকি যদি সবার অংশই এক-সপ্তমাংশের বেশি হয়, তাহলে তা আরও অধিকভাবে জায়েয। কিন্তু যদি কোনো অংশীদারের অংশ এক-সপ্তমাংশের কম হয় চাই অংশীদার সংখ্যা সাতজন হোক বা কম তাহলে কারো কুরবানীই হবে না। (দুররে মুখতার ৯/৫২৪)
মাসআলা (৫)
: কুরবানীর সাত ভাগের মধ্যে যে এক-সপ্তমাংশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নামে রাখা হয়, সেটি সব অংশীদার মিলে সমানভাবে আদায় করুক অথবা একজন ব্যক্তি একাই সম্পূর্ণ অংশটি আদায় করুক উভয় পদ্ধতিই জায়েয। এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো অসুবিধা নেই। (ফাতাওয়া ফায়যুর রাসূল ২/৪৫৩)
মাসআলা (৬)
: খাসি করা ছাগল কুরবানী করা কেবল জায়েয-ই নয় বরং উত্তম। (হেদায়া, ফাতাওয়া ফায়যুর রাসূল ২/৪৬০)
মাসআলা (৭)
বন্ধ্যা (বাঁঝ) ছাগলের কুরবানী করা জায়েয, তবে শর্ত হলো এর মধ্যে অন্য কোনো ত্রুটি (যা কুরবানিতে বাধা সৃষ্টি করে) না থাকে। (ফাতাওয়া ফায়যুর রাসূল ২/৪৬২)
মাসআলা (৮)
কুরবানীর পশুতে যদি কোনো দেওবন্দী অংশীদার হয়, তাহলে সুন্নীর কুরবানী হবে না। কারণ, আরব ও অনারব -এর অনেক আলেম দেওবন্দীদের উপর কুফরের ফাতওয়া প্রদান করেছেন। (ফাতাওয়া বাহরুল উলূম ৫/১৮৯)
মাসআলা (৯)
: একই পশুতে কুরবানী ও আকিকা করা জায়েয আছে। (ফাতাওয়া আলমগীরী ৫/৩০৪)
মাসআলা (১০)
: গর্ভবতী পশুর কুরবানী করা জায়েয, তবে তা অপছন্দনীয়। হ্যাঁ, যদি গর্ভটি একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় (কয়েক দিনের) হয়, তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই। (আলমগীরী ৫/২৮৭)
মাসআলা (১১)
: কুরবানীর ক্ষেত্রে কুরবানীর নিয়ত করা এবং "বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার" বলা জরুরী। তবে নির্দিষ্ট দোয়া পড়া জরুরি নয়; বরং তা মুস্তাহাব বা উত্তম। (ফাতাওয়া ফাকীহে মিল্লাত, ২/২৫১)
মাসআলা (১২)
: পশুকে কিবলার দিকে মুখ করে জবাই করা সুন্নাত। যদি কিবলার দিকে মুখ না করে জবাই করা হয়, তবুও কুরবানী হবে এবং পশু হালাল হবে; তবে এরূপ করা মাকরূহ। (দুররে মুখতার ৯/৪৯৫)
মাসআলা (১৩)
: যেসব গোষ্ঠীর ভ্রান্তি কুফরের পর্যায়ে পৌঁছেছে যেমন- ওয়াহাবি, রাফেজি, কাদিয়ানী প্রভৃতি তাদের জবাইকৃত পশু মৃতদেহ (হারাম) হিসেবে গণ্য হবে। কুরবানীও হবে না। (ফাতাওয়া রাযাবীয়াহ ২০/২৫০)
মাসআলা (১৪)
: জবাই করার বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয। তবে পারিশ্রমিক নির্ধারণের দুটি পদ্ধতি রয়েছে। একটি হলো নির্দিষ্ট অর্থ (টাকা) নেওয়া, আর অন্যটি হলো সেই কুরবানীর পশুর মাংসকে পারিশ্রমিক হিসেবে নেওয়া। যদি নির্দিষ্ট অর্থ পারিশ্রমিক হিসেবে নেওয়া হয়, তাহলে তা জায়েয। কিন্তু যদি কুরবানীর পশুর মাংস পারিশ্রমিক হিসেবে নেওয়া হয়, তাহলে তা জায়েয নয়। (ফাতাওয়া রাযাবীয়াহ ২০/৩০৭)
মাসআলা (১৫)
: কসাই বা বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে পারিশ্রমিক হিসেবে কুরবানীর পশুর মাংস দেওয়া জায়েয নয়। পারিশ্রমিক হিসেবে পয়সা দিতে পারে। তবে হ্যাঁ, চাইলে তাদের উপহার হিসেবে মাংস দেওয়া যেতে পারে। (ফাতহুল কাদীর ৯/৫৩২)
মাসআলা (১৬)
: উত্তম হলো কোন ব্যক্তি যদি ভালোভাবে জবাই করতে জানে, তাহলে সে নিজ হাতেই কুরবানীর পশু জবাই করবে। আর যদি সে ভালোভাবে জবাই করতে না জানে, তাহলে অন্য কাউকে জবাই করার দায়িত্ব দেবে। তবে এ ক্ষেত্রে উত্তম হলো, কুরবানীর সময় সে নিজে উপস্থিত থাকবে। (ফাতাওয়া আলমগীরী ৫/৩০০)
মাসআলা (১৭)
: কুরবানী করা হলো, এরপর তার পেট থেকে যদি জীবিত বাচ্চা বের হয়, তবে সেটিকেও জবাই করবে; এবং সেই বাচ্চার গোশত খাওয়া বৈধ। আর যদি বাচ্চাটি মৃত অবস্থায় বের হয়, তবে সেটিকে ফেলে দেবে। কারণ, তা মৃত হিসেবে গণ্য হবে। (বাহারে শরীআত ৩/৩৪৮)
মাসআলা (১৮) :
অন্য কাউকে দিয়ে জবাই করানো হলো, আর নিজেও ছুরির ওপর হাত রেখে একসাথে জবাই করল এ অবস্থায় উভয়ের উপরই "বিসমিল্লাহ" বলা ওয়াজিব। যদি তাদের মধ্যে একজনও ইচ্ছাকৃতভাবে "বিসমিল্লাহ" না বলে, অথবা এই ভেবে না বলে যে অন্যজন তো বলেই নিয়েছে, আমার বলার দরকার কী তাহলে উভয় অবস্থাতেই সেই পশু হালাল হবে না।
(দুররে মুখতার ৯/৫৫১)
মাসআলা (১৯)
: মুস্তাহাব বা উত্তম হল কুরবানীর মাংস তিন ভাগে ভাগ করা: এক ভাগ ফকির-মিসকিনদের জন্য,
এক ভাগ বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য,
এবং এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য রাখা। তবে কেউ যদি সম্পূর্ণ মাংসই দান করে দেয়, অথবা সবটুকু নিজের জন্য রেখে দেয়, তবুও তা জায়েয। (ফাতাওয়া আলমগীরী ৫/৩০০)
মাসআলা: (২০)
কুরবানীর চামড়া, মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ ও কবরস্থান ইত্যাদিতে দেওয়া জায়েয আছে। ফাতাওয়া রাযাবীয়াহ -এর মধ্যে বিদ্যমান: কুরবানীর চামড়া এমন সব কাজে ব্যয় করা যেতে পারে, যা নেক কাজ, কল্যাণকর এবং সওয়াবের কারণ হয়।
হাদীসে এসেছে:
"তোমরা খাও, সংরক্ষণ করো এবং সাওয়াবের উদ্দেশ্যে ব্যয় করো।" (খন্ড: ২০, পৃষ্ঠা: ৪৭৩)
والله اعلم بالصواب
দোয়াপ্রার্থী
গুলজার আলী মিসবাহী,
উঃ দিনাজপুর
সিনিয়র শিক্ষক ও মুফতী: খালতিপুর মাদ্রাসা, কালিয়াচক, মালদা।
ভারপ্রাপ্ত মুফতী: দারুল ইফতা ওয়াল ক্বাযা, কালিয়াচক, মালদা।
সম্পাদক: মাসিক আল-মিসবাহ
কপি হয়ে গেছে ا
Arabic:wght@400;700&display=swap" rel="stylesheet">















4 thoughts on “یونیورسٹیوں میں نکاح کا غلط رواج”
Assalamualaikum
Assalamualaikum wa rahmatullah
Assalamualaikum wa rahmatullah
As