প্রবাসে বা ভিন রাজ্যে থাকলে কোথাকার দরে ফিতরা আদায় করতে হবে?
প্রশ্ন:- যে ব্যক্তি প্রবাসে কিংবা নিজ রাজ্য অথবা জেলার বাইরে অন্য কোথাও বসবাস করে, সে সাদকাতুল ফিতর আদায় করার সময় কোন এলাকার দ্রব্যমূল্য অনুসরণ করবে, নিজ এলাকার, নাকি যেখানে বর্তমানে অবস্থান করে আছে সেই এলাকার?
الجواب بعون الوھاب اللھم ھدایة الحق والصواب
উত্তর:- যে ব্যক্তি নিজ এলাকা ত্যাগ করে অন্য জেলা, রাজ্য বা দেশে অবস্থান করছেন, তিনি যেখানে বর্তমানে অবস্থান করছেন সেই স্থানের দ্রব্যমূল্য অনুযায়ী নিজের পক্ষ থেকে এবং তার নাবালক ছেলে-মেয়ে (যারা মালিকে নেসাব নয়) -এর পক্ষ থেকেও তাঁর উপর সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।
প্রবাসে অথবা অন্য জেলা বা রাজ্যে অবস্থানকারী ব্যক্তি যদি নিজের বর্তমান অবস্থানস্থলের দ্রব্যমূল্য উপেক্ষা করে, নিজের পক্ষ থেকে এবং তার নাবালক ছেলে-মেয়েদের পক্ষ থেকে নিজ এলাকার দ্রব্যমূল্য অনুযায়ী সাদকাতুল ফিতর প্রদান করেন, তাহলে ফিতরা আদায় হবে না।
তবে স্ত্রী এবং প্রাপ্তবয়স্ক (সাবালক/সাবালিকা) সন্তানগণ তাদের নিজ নিজ অবস্থানস্থলের দ্রব্যমূল্য অনুযায়ী স্বতন্ত্রভাবে ফিতরা প্রদান করবে।
হ্যাঁ, ফিতরা প্রদানের ক্ষেত্রে তার এ অধিকার থাকবে যে, তিনি চাইলে যেখানে বর্তমানে অবস্থান করছেন সেখানে প্রদান করতে পারেন অথবা নিজ এলাকাতেও ফিতরা প্রদান করতে পারেন।
ফাতাওয়া হিন্দিয়া'র মধ্যে বিদ্যমান:
وفي صدقة الفطر يعتبر مكانه لا مكان أولاده الصغار وعبيده في الصحيح كذا في التبيين وعليه الفتوى كذا في المضمرات
অর্থাৎ:- সাদকাতুল ফিতরের ক্ষেত্রে প্রদানকারীর অবস্থানস্থলই বিবেচ্য হবে; তার নাবালক সন্তানদের বা দাসদের অবস্থানস্থল বিবেচ্য হবে না। এটাই সহীহ মত। এ কথা তাবয়ীন নামক কিতাবে উল্লেখ আছে। এবং এর ওপরই ফাতওয়া রয়েছে, যেমন মুযমারাত-এ বর্ণিত হয়েছে। (খন্ড: 1, পৃষ্ঠা: 190)
বেনায়া শারহে হেদায়া নামক কিতাবে রয়েছে:
(بخلاف صدقة الفطر)حيث يعتبر فيها مكان الفاعل وهو المؤدي(لأنها لا تسقط بهلاك المال بعدما طلع الفجر من يوم الفطر)فحينئذ يعتبر مكان صاحب الذمة وهو المؤدي
অর্থাৎ:- সাদকাতুল ফিতরের বিধান ভিন্ন। কারণ, এতে করণীয় হলো প্রদানকারীর (যিনি আদায় করছেন) অবস্থানস্থল বিবেচনা করা। কেননা, ঈদের দিনের ফজর উদয়ের পর সম্পদ নষ্ট হয়ে গেলেও ফিতরার দায়িত্ব রহিত হয় না। অতএব, এ ক্ষেত্রে যার উপর দায়িত্ব বর্তায় অর্থাৎ প্রদানকারী, তার অবস্থানস্থলই গণ্য হবে। (খন্ড: 11, পৃষ্ঠা: 27-28)
হেদায়া' র টীকা দেরায়া'র মধ্যে রয়েছে:
فاعتبر فيىها مكان المودى لا مكان الولد و الرقيق على ما عليه الفتوى
অর্থাৎ:- এ ক্ষেত্রে ফিতরা প্রদানকারীর অবস্থানস্থলই বিবেচিত হবে; (নাবালক) সন্তানের বা দাসের অবস্থানস্থল বিবেচিত হবে না। এবং এ মতের উপরই ফাতওয়া রয়েছে। (হেদায়া সহ দেরায়া, পৃষ্ঠা: 446, টীকা নম্বর: 6)
হেদায়া সহ দেরায়া নামক গ্ৰন্থে রয়েছে:
يخرج ذلك عن نفسه.. ويخرج عن اولاده الصغار.. و لا ماله للصغار (ملخصا)
অর্থাৎ:- সাদকাতুল ফিতর নিজের পক্ষ থেকে আদায় করবে এবং নিজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের পক্ষ থেকেও আদায় করবে যখন তাদের নিজস্ব সম্পদ না থাকে। (পৃষ্ঠা: 225, প্রকাশিত, মাকতাবা রহমানিয়া, লাহোর)
দুররে মুখতার -এ রয়েছে:
عن نفسہ۔۔وطفله الفقیر۔۔۔۔لاعن زوجته وولدہ الکبیرالعاقل
অর্থাৎ:- নিজের পক্ষ থেকে এবং তার সেই নাবালক সন্তানের পক্ষ থেকেও সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব (যে সন্তান নিজে নেসাবের মালিক নয়)। তবে তার স্ত্রীর পক্ষ থেকে কিংবা তার প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিসম্পন্ন সন্তানের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা তার উপর ওয়াজিব নয়। (খন্ড: 3, পৃষ্ঠা -367-368)
হুযূর ফাক্বীহে মিল্লাত রহমতুল্লাহি আলাইহি -কে জিঙ্গাসা করা হয় যে,
"জায়েদ মুম্বাইয়ে অবস্থান করছে এবং তার (নাবালক) সন্তানরা নিজ জন্মভূমিতে রয়েছে। তাহলে তাদের সাদকায়ে ফিতরের গমের মূল্য কি জন্মভূমির বাজারদর অনুযায়ী আদায় করবে, না মুম্বাইয়ের বাজারদর অনুযায়ী?
আর যে অলংকারসমূহের সে মালিক, সেগুলো যদি জন্মভূমিতে থাকে, তবে যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে কোন স্থানের মূল্য বিবেচিত হবে?"
এর উত্তরে তিনি বলেন:
"যেহেতু সন্তানরা এবং গয়না নিজ জন্মভূমিতেই রয়েছে, তাই
সাদকাতুল ফিতরের গমের মূল্য মুম্বাই -এর বাজারদর অনুযায়ী দিতে হবে। আর গয়নার যাকাত জন্মভূমির বাজারদর অনুযায়ী দিতে হবে।" (ফাতাওয়া ফায়যুর রাসূল, খন্ড: 1, পৃষ্ঠা: 511)
প্রকাশ থাকে যে, উপরোক্ত বিধান তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন বর্তমান অবস্থানস্থলের ফিতরার পরিমাণ নিজ এলাকার তুলনায় কম হবে। কেউ যদি ভুলবশত নিজ এলাকার হিসাব অনুযায়ী ফিতরা আদায় করে, আর তার বর্তমান অবস্থানস্থলের নির্ধারিত পরিমাণ নিজ এলাকার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে ফিতরা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু যদি বর্তমান অবস্থানস্থলের পরিমাণ নিজ এলাকার চেয়ে কম হয়, তাহলে সেই ক্ষেত্রে ফিতরা আদায় হবে না।
والله اعلم و رسوله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানকারী
গুলজার আলী মিসবাহী
ভারপ্রাপ্ত মুফতী: দারুল ইফতা ওয়াল ক্বাযা, কালিয়াচক, মালদা।
সিনিয়র শিক্ষক ও মুফতী: খালতিপুর মাদ্রাসা, কালিয়াচক, মালদা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
07 রমজান 1447 হিজরী
25 ফেব্রুয়ারি 2026 খ্রিষ্টাব্দ
রোজ- বুধবার
✔ مضمون کاپی ہو گیا















4 thoughts on “یونیورسٹیوں میں نکاح کا غلط رواج”
Assalamualaikum
Assalamualaikum wa rahmatullah
Assalamualaikum wa rahmatullah
As